পাবনার ঈশ্বরদীতে স্বামীর ছুরিকাঘাতে রিনা বেগম (২৯) নামে এক স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার ২ জুন সকাল সাড়ে ৭টায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইপিজেড গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোছা: রিনা বেগম (২৯) রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন, আড়ানী, চক সিঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর মেয়ে এবং ঈশ্বরদী ইপিজেডে রেনেসাঁ কোম্পানিতে শ্রমিক পদে চাকরি করতেন। রিনা চাকরির সুবাদে বর্তমানে ঈশ্বরদী থানাধীন বাঘইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের ভাড়া বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত স্বামী মো. মিলন (৩৮) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাসুনিয়া পট্টি এলাকার মো.শুকুর আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন টাইলস্ মিস্ত্রি। মিলন ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী ইপিজেড গেটের সামনে জনৈক লাভলুর ম্যাচে ভাড়া থাকত। মিলন এবং রিনা বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী হলেও তারা একই এলাকায় আলাদা বাসা ভাড়া থাকত। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ই কর্মজীবী হওয়ার সুবাদে মিলন এবং রিনার মধ্যে বনিবনা কম হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে সন্দেহের প্রবনতাও বাড়তে থাকে। প্রায়ই স্ত্রী রিনার অন্যত্র সম্পর্ক (পরকীয়া) আছে সন্দেহে তাদের মধ্যে খুনসুটি লেগেই থাকত। এরই জেরে তারা উভয়ই আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বামী-স্ত্রী হয়েও দুজনেই বসবাস করতে থাকেন একই এলাকার আলাদা বাড়িতে। বিষয়টি স্বামী মিলন মেনে নিতে না পেরে আজ (২ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় ভিকটিম (স্ত্রী) মোছা. রিনা বেগম কাজে যোগদানের জন্য ইপিজেডের রেনেসা কোম্পানির উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে রওনা হয়ে স্বামীর মেসের সামনে বাঘইল পশ্চিম পাড়া মো. ইব্রাহিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে স্বামী মো. মিলন হোসেন ভিকটিম মোছা. রিনা বেগমের পথ রোধ করে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দ্বারা ভিকটিমের পেটে, ডান হাতে সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে রক্তাক্ত যখম করলে। ভিকটিম রিনা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় রিনার আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ঘাতক স্বামী মো. মিলন হোসেনকে আটক করে উত্তম মাধ্যম প্রহার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে খরব দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী মিলনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। ঈশ্বরদী থানার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক সুরতহাল করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।