ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া জাকারিয়া পিন্টুসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে জেলা কারাগার থেকে তিন নেতাকর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় জেলগেটে ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করেন নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদ্য কারামুক্ত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু।পরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় শত শত মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেলসহ নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রাটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাছপাড়া, টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া হয়ে ঈশ্বরদী গিয়ে পৌছেন।
বিকেলে ঈশ্বরদী পুরাতন বাসষ্ট্যান্ডে সদ্য কারামুক্ত পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। গণসংবর্ধনায় পাবনা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি ও অংগসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য ০৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এই মামলার কারাবন্দি ০৯ জনসহ ৪৭ জন আসামীকে খালাস প্রদান করেন। ১১ ফেব্রুয়ারী ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এ.কে এম আখতারুজ্জামান সহ ৪ জনের রাজশাহী কারাগার থেকে মুক্তির কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ত্রিশ বছর আগে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ১৯৯৪ সালের মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত ফরমায়েশি রায় দেন পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক রস্তুম আলী। ফরমায়েশি এই রায়ে স্থানীয় বিএনপি’র মোট ৫২ জন নেতাকর্মীর মধ্যে ৯ জনকে ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালীন ৪ জন এবং রায়ের পর কারাগারে মারা গেছেন ৩ জন।